মৃত-নারীকে গোসল করিয়ে দেয়ার সময় বমি করছিলো
মিশরের কায়রো শহরে থাকি আমি। ৪৬ বছরের এই জীবনের অর্ধেকটা জুড়ে রয়েছে অসংখ্য মৃত-নারীকে গোসল করিয়ে দেয়ার অভিজ্ঞতা। কাজটা আমি করি শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। দুনিয়ার জীবনটা, নিজের দেহটা কত যে ঠুনকো-মৃতদেহ গোসল করাতে গেলে শিরায় শিরায় উপলব্ধি করা যায়। এই কাজ করতে গিয়ে অনেক অনেক অস্বাভাবিক-অলৌকিক ঘটনা দেখেছি চোখের সামনে। তাই আমি দাওয়াতি কাজ করারও চেষ্টা করি। অন্যদেরকে আল্লাহর পথে চলতে উৎসাহ করার কারণে আমার মৃত্যুটাও যেন সুন্দর হয়-এটাই কামনা।
আজ যেই ঘটনাটি শেয়ার করব, সেটার বেশি দিন হয়নি। শহরের অনেকেই জানে, আমি নারীদের লাশ গোসল করিয়ে দেই, তাই নানা জায়গা থেকে ডাক আসে। চেনা-অচেনা, সব জায়গা থেকে। সেদিনও একজন ডেকে নিয়ে গেল। আমার পরিচিত কেউ নয়, তবে পরিচিতের পরিচিত। গেলাম তার সাথে। মৃতার বয়স বেশি নয়, ৩১-৩২ বছর। তিনটি সন্তানও আছে।
ছোটছোট বাচ্চা রেখে, এত কম বয়সের একজন মারা গেল, ভাবতেই খারাপ লাগে।
বাড়িতে পৌঁছে যথারীতি শোকের পরিবেশ পেলাম। ছোট দুজন বাচ্চা নানির পাশে চুপচাপ বসে আছে, হতবাক হয়ে। বড়টা কাঁদছে। পাশেই মৃতার ছোটবোন, সেও খুব কাঁদছে। ওদের কাছে গিয়ে টুকটাক কথা বললাম। সান্ত্বনা দিলাম।
'কাঁদবেন না, বাচ্চাগুলোর জন্য আপনাদেরকে শক্ত হতে হবে। আল্লাহ আপনার মেয়ের ওপর রহম করুন। বেশি বেশি দুয়া করুন, আল্লাহ যেন তাকে ভালো রাখেন।'
এরপর লাশ কোথায় রাখা হয়েছে, কোথায় গোসল করানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে সে বিষয়ে জানতে চাইলাম। মৃতার ছোট বোন দেখাতে নিয়ে এলো আর বলল সেও আমাকে গোসল করার কাজে সাহায্য করবে।
ভালো! একা একা গোসল করাতে অবশ্য পারি আমি, তবে সাথে একজন থাকলে মন্দ হয় না। কাজটা তাড়াতাড়ি হয়।
মৃতদেহ শুইয়ে রাখা। আমি তখনও পায়ের দিকে পরিষ্কার করছি। সামনে দাঁড়িয়ে মৃতার বোন। হঠাৎ সে বলল, 'আল্লাহ!'
'কী হয়েছে?' জিজ্ঞাসু দৃষ্টি নিয়ে তাকাতেই দেখি লাশের মুখ দিয়ে ফেনা বেরুচ্ছে। চমকে গেলাম আমি।
চমক আরও বাকি ছিল। ফেনা থেকে পানি, পানি থেকে একেবারে বমি গড়িয়ে গড়িয়ে পড়তে লাগল! একদম জীবিত মানুষের মতো বমি। শুধু তা-ই নয়, লাশটার দেহ ঝাঁকুনি খেল। এরপর পেটের ভেতর গুড়গুড় শব্দ হয়ে বমি বেরুতেই আছে। পেটে মোচড় দিয়ে বমি হলে যেমন হয়। সেই সাথে দমবন্ধকর দুর্গন্ধ।
:
ভয়ে কাঁপুনি শুরু হয়ে গেল আমার। মৃতার ছোটবোনটাও আতঙ্কে কাঁদতে শুরু করল।
'আমার বোনের কী হলো! ও এরকম করছে কেন!'
কোনো রকমে সাহস সঞ্চার করে কাজ শুরু করলাম। বমি পরিষ্কার করছি, আবার বেরুচ্ছে, পরিষ্কার করছি, আবার বেরুচ্ছে। এভাবে করতে করতে টিস্যুর প্যাকেট শেষ হয়ে গেল, নোংরা কাপড়ের স্তুপ জমে গেল। তাও বমি থামে না।
এদিকে আমাদের ক্রমাগত পেরেশানির টোনে কথাবলা, এত এত কাপড় চাওয়া দেখে গোসলখানার বাইরের মানুষজন বুঝল, কিছু ঘটেছে। একেক জন এসে জিজ্ঞেস করতে থাকে-কী হয়েছে। শেষমেশ জানাতেই হলো, লাশ বমি করছে জীবিত মানুষের মতো! থামছেই না!
🎁 Your Special Offer is Loading...
Please wait a moment. You'll be redirected automatically after the countdown.
⏳ Stay here — your offer will open in a new page.
✅ Redirect happens only once per session.

Comments
Post a Comment